Photos

বিহা গীত

 * বিহাক লে হুব নাঞ, আর মরাক ললে সক নাঞ*

অহনাটা সলোআনা নিনটঅ কাথা। বিহাক নেগ জগেক ডেগে ডেগে ফুটি উঠেইক গীত মনেক ভাব হুবেক লহর।
*******************************************
রাজেশ মাহাতো
কখনো কখনো অবাক হয়! কিভাবে আমাদের মা, মাসি কাকি, জ্যেঠিরা দাঁড়ি, কমা , পূর্নচ্ছেদ এর খেয়াল রেখে এত গুলি বিহা গীত, করম জাওয়া বাঁদনা টুসু গীত গুলি মুখস্থের মতো বলতে পারেন অথচ তাঁদের কেউ উচ্চ শিক্ষিত নয়, আবার কেউ অক্ষরঙ্গানহীন। ধন্য তাঁদের স্মৃতিশক্তি, কল্পনা। চলতে বুলতে কোন সৌন্দর্যের প্রকৃতির তুলনা শক্তি, আবেগ, বিরহের তাৎক্ষনিক ছন্দ দ্বারা তার সুন্দর বহিঃপ্রকাশের ভাব সত্যিই বিস্ময়কর। গানগুলিতে তাঁদের মনলোক, ইচ্ছা, আবেগ, সুখ দুঃখ, ইত্যাদিতে পরিপূর্ন মনের জমাট ভাব উপযুক্ত শব্দ চয়নে শ্রুতি মধুর তো সেই সঙ্গে মনের বিমুর্ত ভাব প্রকাশ পায়। তাঁদের হাত ধরে কতই এরকম গীত জন্ম নিয়েছিল এবং সময়ের সঙ্গে আবার হারিয়ে গেল; সেই সঙ্গে ডুবে গেল ইতিহাস, সাংস্কৃতির একটি অধ্যয় যা তাঁদের গীতের ছত্রে ছত্রে খদিত ছিল।
** কাঁইদ কাঁইদ না মুনু কাজল ধুঁয়ে যাবে গো
তোমার শাশুড়ি অভাগিনি কাজল কোথা পাবে গো।

গানটিতে দেখি কন্যার বিদায় কালে অশ্রুসিক্ত বেদনা, আর তাকে একসঙ্গে প্রবোধ দান। নববধূ শাশুড়ির অভাগিনী দশা, এমনকি তার দারিদ্রতা অসহায়তা সবকিছু মিলে শাশুড়ি পুত্রবধূর একটি সংক্ষিপ্ত বেদনা ভরা রুপ সংহত হয়ে উঠে। এই গীত গুলির সঞ্চারন প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে চিরাচরিত ভাবে সঞ্চালিত হয়ে আসছ। কোন লিখিত রূপ না থাকার জন্য একটিই গান অন্য এলাকায় একটু আলাদা ভাবে গাওয়া হয়। বদলে যায় গানের এক বা একাধিক শব্দ, কখনো এক বা একাধিক চরণও লুপ্ত হয়ে যায়। আবার কোথাও দুএকটি লাইন নতুন করে যোগ হয়ে যায়।
*** পাড়াপড়শি আস্যেছে নুনুর বরণ দেখিতে গো,
গুলাইজ ফুল আর চন্দনের ফোটায় হইল বরন গো,/ বরনের লক গিলা কেমন শাড়ি আন্যেছেঁঁ গো,,/
নুনু প্রায় সাজেনা ছি ছি আমরা লাজে মরি গো/
***কাজললতা কাজললতা নুনু কাজললতা,
তিন দিনের লগন নুনু ধর কাজললতা।
***এক বঁকে দুইটি ফুল, দুইটি ফল ই লাল গো
ভাই বহিনের ভালোবাসা থাক্যে চিরকাল গো।
****কত জলে আলি গেলি কত জল কে পার হলি,/ কত টাকা হাঁকল্য বরের দাদা কত টাকায় মাথালি,/ কমর জলে আলি গেলি ঘেঁচা জলে পার় হলি,/ _________ হাঁকল্য বরের দাদা______টাকায় মাথালি।
****ঘর না দেখিলে বাবা বর না দেখিলে,/
একেই বারে দিলে বাবা বুঢ়া বরের সঙে গো,/
*****কিয়া লাগি গে কোকিলা ঘুরে ডালে ডালে গো,/ কিয়া লাগি দাদা মোর় ঘুরে দেশে দেশে গো,/ আহার লাগি গে কোকিলা ঘুরে ডালে ডালে,/ বর লাগি দাদা মোর ঘুরে দেশে দেশে গো।
***** কাকার জ্যেঠার বিটি মিঞা আধা দিনের সঁগি গো,/
দেওরানি জ্যেঠানি মুনু চিরজীবনের সঁগি গো।
**** গাছের বেগুন তুইল না মা গাছ শুধা হবেক গো,/
কোলের বিটি দিলে বিহা কোল শুখা হবেক গো,/
ঘর হবেক শুখা মা গো কোল হবেক শুখা,/
কোলের বিটিক বিহা দিলে কোল হইল শুখা।
****** দুটাকা কেজি বিলাতি মাগো তাতে লাগে টক গো,/
এত সুঁদর বিটি হামার তবু লাগে টাকা গো,/
*** ধান বিকায় চাল বিকায় পরে খুঁজে টাকা গো,/
বরের বাবা বেটা বিকে আগে খুঁজে টাকা গো, ।
**** গরু বিকায় ছাগল বিকায় বাবা কালিমাটির হাটে গো,/
বরের বাবা বেটা বিকে দশ মজলিসে গো,/
**** আম বাগান জাম বাগান হাওয়া খাইতে,/
বর বাবুকে রেডিও দিব খবর শুনিতে,/
*****কি বলিব মা যুগের কথা, যুগের পরিপাটি গো,/
কন্যার বাবা ভাব্যে ভাব্যে জীবন হইল্য মাটি গো,/
**** বাবা আমায় ভালোবাসে সাধের বিটি বলে গো,/ আর কি ভালবাসবেক বাবায় বেহাই বেহান পাল্যে গো,/ কাকা আমায় ভালোবাসে সাধের বিটি বলে গো,/ আর কি ভাল বাসবেক কাকায় থালা বদল হল্যে গো,/
***** বারে বারে বারুন করি বাবা মাঠারি গাঁয়ে ঘর জুইড় না,/ মাঠারি গাঁয়ের লকগিলা কুটুমের মান জানে না,/ কুটুমের মান জানেন জদি মিতানের মান জানেন না,/ মিতানের মান জানেন যদি বইস বল্যে কেউ আর বল্যে না।
****** তাল তলে তাল কন্যা খেজুর তলে বর গো,/ কনিয়ার মামি লগন চুমাই চইখে পড়ে লর গো,/😕😕😕
*** নুনু'র মামা ঘরের তিন ছাদের দলান আছে,/
বাইরে
মামি ভালোই দেখায় ভিতরে মামির খল আছে।
**** তকে যে লো দিলি .......😕 ঝিকিমিকি শাড়ি,/ হামদের বাবুকে কই দিলি লো.......😆 টাইম দেখবার ঘরি,/
****বাঁশ বনে করিল উঠে ভাঙলে মানবো না,/ দ্যেখে শুনে করবি বিহা .....😕রে ছাইড়ল্যে মানবো না ।
******ঝালদা হাটের কানা বাইগন সিঝালে না সিঝে,/ তর মতন দরপড়ুয়া রে.....😠 বুঝালে না বুঝে।
*** আলতা পাইড় শাড়ি লিব জিলপি রঙে গাবাবো,/ কুলহির মুঢ়ায় টাঁগে দিব সব সঁগির মন জুড়াব।
**** নুনু মামায় বর দেখ্যেছে বেঙ্গল ছাড়্যে ঝাড়খন্ডেএ,/ট্রেনে যাবি ভেনে আসবি নামবি ঘরে দুয়ারে।
**** শিশিরে কি ধান হই মা জল না পড়িলে,/ বলিলেই কি বিহা হয় মা ফুল না ফুটিলে,/
*****আলু লাগাই ভেলি ভেলি,/ আলু হইল চমৎকার,/ বরের বাবা ঘরে নাই,/ বরের মাঞ হইল মেনেজার।
**** জলের বাটি, তেলের বাটি,/ চুনের হইল কারখানা/ ঘাটপারের লকগিলা দিনেই হই রাইত কানা
*****
নৃত্য সহযোগে গীত( জল সইতে যাওয়ার সময়,
***কাল চুল্যে কিলিপ লাগাবো লো,/ কাল চুল্যে কিলিপ লাগাবো,/ ঘাটপারের লকগিলাক ঘুরাই ফিরাই ল্যাচাব....
**** শিরিষ গাছের তিরিশ টাকা দাম লো/ শিরিষ গাছের তিরিশ টাকা দাম/ ওই গাছ লিবি যদি গাছে মালিক ধরে আন।
**** সবাই গেল গগলি কাড়িতে লো/ সবাই গেল গগলি কাড়িতে,/ গগলি পিঠা বড়ই মিঠা শ্যামকে দিয়া হইল না।
**** আমার শাড়ি আসছে গাড়িতে লো/ আমার শাড়ি আসছে গাড়িতে/ সেই গাড়িটি হইল অটক/ রেল লাইনের ফটকে...
**** ওরে ও বরের বহিন/ গুঁটাই রাখ কুইল পালহা/ যখন হবেক পেটের জ্বালা / সিঝাই খাবি দু'ইবেলা।
****** আইজ হামদের ছুটু মুনু বিহা গো আইজ হামদের ছুটু মুনু র বিহা/ মদ খাব হাঁড়িয়া খাব, নাচব ধিয়া ধিয়া গো/ আইজ হামদের ছুটু মুনু র বিহা ।
***** তুই আলি ত আরেক জনা কই লো,/ তুই আলি ত আরেক জনা কই,/ তার লাগ্যে বানাই ছিলি / সরু চিড়া আর চেঁকা দই/ তুই আলি ত আরেক জনা কই.
*******
বর যখন কুলহি মূড়ালে ঘরকে সামহাই তখন কনিয়া ঘরের মেয়েরা 😆😆😆😆
***আনরে গিলাসের জল দেইখব বরের বাবাকে/কিয়া সাজন সাজ্যেছে ভাই ছোট বেটার বিহা'তে।
**** শুনঅ শুনঅ বরের বাবা/ অল্প কথায় রাগ কইরো না/ টাকা দিঞেছি জামাই কিনেছি/ তোমার অধিকার পাবে না।
**** তুই যে রে বলিস..😕 নাই করইব বিহা/ হামদের নুনুর মুখ দেইখে রে 😕 করবই বলিস বিহা।
***** তর বাপ যে বলে 😆 খাসি বাড়হাইছি/ খাসি তাসি সকইল মিছা রে 😆 তকে বাড়াইছে।
**** পিপা তলে সরু বালি হামদের নুনু দুলালি,/ হামদের মুনু দুলালিকে রুপার চুড়িয়েএ ভুলালি।
*** চাঁড়ে চাঁড়ে আয় ...😕 চাঁড়েই খাত্যে দিব,/ কুটেছি মরিচের কুঁড়া রে 😕 জল খাত্যে দিব ।
*** সনল্যা শুটি শুটি মা গো শনল্যা শুটি শুটি,/ বর ঘরের লোক গিলার উপর দিকে টুঁটি।
*** কন্যার বাবাব হাথে ঘরি রাইত বারোটা বাজিছে,/ বরের বাবা নাইখে ঘরি ভাকার ভুকুর ভালিছে।
**** কোন বিদেশীর বেট্যা আস্যে দুয়ারে দাঁড়াল,/ ভিখ দিলে ভিখ লেই না মা খুঁজে কলের বাছা গো,/ খুঁজিলে কি দিব মাগো মাগিলে কি দিব,/ পাঁচ কুটুমের মাঝে মাগো ছামড়া তলায় দিব।
*** কন্যা দানের গীত....
*** .চন্দন কাঠের পিঁড়া বাবা ঘিয়ে ছলছল করে গো,/ বাবা আমার বস্যে আছে বিটি দান করিতে গো,/ বিটি দান করিবার বেলা চইখে পড়ে লর গো,/ আনো মা লাল গামছা মুছায় বাবার লর গো,/
*** ইঘর খুলি উঘর খুলি দেখি সঁগির ফটঅটা,/
কেমনে ভুলিব সঁগি তোমার মুখের হাঁসিটা।
*** থালা দিলাম ঘটি দিলাম আরো দিলাম বিটি গো,/ রাস্তার মাঝে গাইল দিও না জামাই বড় সাধের বিটি গো/
**** এত দিন যে রাখ্যেলে মাগো বিটি বল্যে গো,/ আইজ ক্যেনে দিলি মাগো বিটি বাহির করে গো,/
***মা কাঁদে বাবা কাঁদে, কাঁদে পিঠে ভাই গো,/ নদী কাঁদে নালা কাঁদে, কাঁদে মুনুর সঁগি গো।
**** মামি কাঁদে মসি কাঁদে কুলহি ধারে বস্যে গো,/ খেলিবার সঁগি কাঁদে ধুলাতে লুটায়্যে গো।
***** এত কে কাঁদছ নুনু বড় দাদা পা ধরে,/ গটা পাড়া ঘুরে দেখ মুনু কে আছে বাপের ঘরে ।
*** বাবার কাঁদন যেমন তেমন মাঞের কাঁদন রোদন গো,/ আসতে আসতে চালাও গাড়ি শুনবো মায়ের রোদন গো।
**** আমাকে না দেখলে মাগো সারাক্ষন কাঁদিতে গো ,/ এখন তুমি একা ঘরে কেমনে রহিবে গো।
******************************************************************
কিছু গীত..........
বিহা বিহা শুনি হামরা কবে মুনু'ক বিহা গউ।
মুনু'ক মসি ঘারে নিপাঅল গুআ গউ।।
গুআ যদি পাইল্য মসি, পাইল্য খাঁড়া গুআ গউ।
খাঁড়া গুআ পাঁঞে মসির মনঅ ভাঙে গেল গউ॥
মুনুকে যে মানুষ করলি যেমন ঘি এর কলসি।
আইজ মকে কাঁহে বিকে দিলে গউ, যেমন বাঁধের মছলি॥
ইঘর ঝেটাই উঘর ঝেটাই, বসি মাঞের কোলে গউ।
ও মা মিনতি করি বি'কনা, আমারে গউ॥
সনার আচীর সনার পাচীর সনার বাসর ঘর গউ।
বাপের ঘরে কপাট দিঞে মুনু যাবেক সসুর ঘর গউ॥
চাঁড়ে কাঁকন বাঁধ বহনই চাঁড়েই খাত্যে দিব।
কাট্যেছি পুঁআলের ছেনি রে বহনই সেই খাত্যে দিব॥
আম পাতা ছিরি ছিরি মহুল পাতের পতরি।
এখনো না আইল্য বরের বাবা, শুখাই গেল পতরি॥
আম তলে দাঁড়হাঞ বাবু মজা জুতা হারাল্যে।
ঐ ধনীর লাগে বঁধু হাজার টাকা উড়ালে॥
কত সাধের জনম বাবুর, কত সাধের বিহা গউ ।
পান খিলিটি দিঞে রাখ বাবু, জুড়াব্যেক মাঞের হিআ গউ।
:--- গয়নাকাঠি কমদামি বা ভালো না হলে / ডোমদের বাজনা না হলে ভালো না হলে/ কমদামি কাপরচূপড় হলে........
ডোম যদি পালি নাই ত বললি কেনে নাই ।
তর বহিনকে বন্ধক দিয়ে ডোম আনলি নাই।।
গইরার দাম গো তিনশো টাকা পুরুল্যার বাজারে।
কেনিআক ভাই বিনতি করে গো স্যাকরা দোকানে॥
বাঁশেরও ছাওনী ঘর মা , চটির হল্য বাঁসা গউ।
বরবাবুর বাবাই খুঁজে আসনঅ. বিছানা গউ॥
ডালে পাতে আম ধরেছে, আমে টাকা হঁয়েছে।
ক'নার বাবা এতই লোভী , তবে বিটি দিঞেছে।
হুঁড়া পলমা কেতন কিআরি কেঁদের বড় দর গউ।
আগে সাজাব ঘরি রেডিও পরে সাজাব বর গউ॥
বর আসুক ব'রাত আসুক বরের বাবা যেমন আসে না
বরে বাবা পাগড়ী বাঁধে আমার মনে লাগে না।।
রাজেশ মাহাতো